
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সরবরাহ বাড়ানোর অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে হংকংয়ের পতাকাবাহী ‘ইয়ান জিং হে’ (YAN JING HE) নামের জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে এসে অবস্থান নেয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডলফিন জেটিতে বার্থিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত জ্বালানি খালাস করা যায়।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একই দিনে আরও একটি জাহাজ মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজটি যুক্ত হলে একদিনেই মোট ৬১ হাজার টন ডিজেল দেশে আসবে, যা জ্বালানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
জাহাজ দুটির শিপিং এজেন্ট ‘প্রাইড’-এর স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আসা প্রথম জাহাজটি বর্তমানে জেটিতে নোঙর করার অপেক্ষায় রয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা অনুযায়ী দ্রুত খালাস প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব জাহাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে জ্বালানি খালাসের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, আজ রাতেই ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ (SHAN GANG FA ZHAN) নামের আরও একটি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে। পাশাপাশি আগামী শনিবার একটি এলএনজি পরিবাহী জাহাজ আসারও সূচি রয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে জ্বালানিবাহী জাহাজ আসার ফলে দেশের জ্বালানি সংকট কিছুটা হলেও কমতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম বন্দরে একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজ আগমন দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।