
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বসতবাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকিতে অবৈধভাবে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করেছে প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ৭৫০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গভীর রাতে অভিযানটি পরিচালনা করেন আকিব ওসমান, যিনি ওই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযানে সুবর্ণচরের চরজব্বর ইউনিয়নের হাসানহাট এলাকায় ‘বসির সেরাং’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানে দেখা যায়, বাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকিতে পানির পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে ডিজেল মজুত রাখা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ট্যাংকি থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করা হয়।
প্রশাসন জানায়, উদ্ধার করা জ্বালানি বাজেয়াপ্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে চর হাসান ভূইয়ার হাট বাজারের একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর কাছে ডিপো মূল্যে স্পট নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত বসির সেরাংকে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেই অর্থ আদায় করা হয়। একই সঙ্গে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তিনি আরও বলেন, বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, জ্বালানি মজুত ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় তা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সুবর্ণচরের এই ঘটনা অবৈধ জ্বালানি মজুতের ঝুঁকি ও এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।