
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। Iran-এর কারাজ শহরের কাছে অবস্থিত একটি বড় সেতুতে যুক্তরাষ্ট্র ও Israel-এর যৌথ হামলার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং আরও ৯৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হামলাটি সংঘটিত হয় বলে জানা গেছে। ইরানের আলব্রোজ প্রদেশের কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার ফলে সেতুর মধ্যভাগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধসে পড়েছে। তারা এই সেতুকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উঁচু সেতু হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন সেতুতে দুই দফায় হামলা চালানো হয়। এতে সেতুর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির মাঝামাঝি অংশ মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।
এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা শত্রুর নৈতিক পতনেরই প্রমাণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের হামলা ইরানকে দুর্বল করতে পারবে না এবং জনগণকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সেতুটি তেহরান ও কারাজের মধ্যে যানজট কমানো এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে নির্মাণাধীন ছিল। ফলে এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এই হামলার বিষয়ে দাবি করেছেন যে, সেতুটি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানের কারাজে সেতুতে হামলার এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এতে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষতিও বড় আকারে দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।