
দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়নে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত উত্তরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার অধীনে মোট ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র চালু রয়েছে। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ২০৩১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিতরণকারী ৬টি সংস্থার অধীনে এসব উপকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৩০৬টি, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ১৮৭টি, ডিপিডিসির অধীনে ৯৯টি, ওজোপাডিকোর অধীনে ৯৭টি, ডেসকোর অধীনে ৬০টি এবং নেসকোর অধীনে ৮৫টি উপকেন্দ্র রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে সারা দেশে বর্তমানে ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগের মান উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় বর্তমানে ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং আরও ৩টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১২৮টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ৭৬টি উপকেন্দ্রের আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে ২ হাজার ৫৪৩ এমভিএ সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এছাড়া আরও ২২৬টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৭১২ এমভিএ সক্ষমতা যুক্ত করা হবে। সব মিলিয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে।
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে অন্যান্য সংস্থাও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা অঞ্চলে নতুন দুটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং নতুন আরও চারটি প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে তিনটি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে এবং একটি নতুন প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আসবে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকাংশে কমে যাবে। শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আবাসিক খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।