
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবহমান জলমহালের ইজারা বাতিল করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৯০তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যে তিনটি জলমহালের ইজারা বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো হলো—উব্দাখালী নদী ও হাগলা বিল, মেধাবিল-টুনাইবাড়ি খাল জলমহাল এবং ভোগাই নদী জলমহাল। এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্য খাতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এবং সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জলমহাল ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এছাড়া সভায় সুনামগঞ্জ জেলার ৫৪টি জলমহালের ইজারা প্রদান কার্যক্রম সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্ধারিত সূচির আওতায় এই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরকার জলমহাল ইজারা ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চায়।
ভূমিমন্ত্রী সভায় বলেন, জলমহাল ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিতব্য সরকারি জলমহাল আইন-২০২৬ চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী জনগণ ও মৎস্যজীবীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই কর্মশালার মাধ্যমে জলমহাল ব্যবস্থাপনা আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। মৎস্যজীবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে তারা সরাসরি উপকৃত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জলমহাল দেশের মৎস্য সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হলে এটি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় জনগণের জীবিকায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ইজারা ব্যবস্থায় অনিয়ম বা স্বচ্ছতার অভাব থাকলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হন।
সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তগুলো থেকে স্পষ্ট যে, সরকার জলমহাল ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে চাচ্ছে। বিশেষ করে, ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগততা, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নেত্রকোনার তিনটি জলমহালের ইজারা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি দেশের মৎস্য খাত ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ভবিষ্যতে এই নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলমহাল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।