
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে কেশবপুর থানার একটি দল হিজলডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় হঠাৎ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, পুলিশ ওই আসামিকে হত্যা করেছে। এই মিথ্যা ঘোষণার ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর স্থানীয় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক একত্রিত হয়ে মব তৈরি করে। তারা সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় কেশবপুর থানার এসআই আসমত আলী, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুল্লাহ আহত হন।
আহতদের মধ্যে কনস্টেবল শহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত শহিদুল ইসলাম জানান, আসামিকে আটক করার পর স্থানীয়রা মব তৈরি করে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং বিভিন্নভাবে আঘাত করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, আসামিও পালানোর সময় আঘাত করে।
এ ঘটনায় কেশবপুর থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আটক করার পর মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে উত্তেজিত করা হয়। এরপর তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তবে ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সীমান্ত এলাকা থেকে পুনরায় আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এই ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনতা উত্তেজিত করা এবং মব তৈরি করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর হামলা চালানো গুরুতর অপরাধ। এতে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে না, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, গুজব বা ভুল তথ্য কত দ্রুত পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থান থেকে প্রচারিত কোনো তথ্য মানুষের মধ্যে দ্রুত প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরনের তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার জন্য সচেতনতা জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।