
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা-কে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার বিনিময়ে তাকে দেওয়া ৫০ কোটি টাকার ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশের দাবিতে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
বুধবার (১ এপ্রিল) জেলা জজকোর্টের বিএনপিপন্থি আইনজীবী আব্দুল মজিদ-এর মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান হৃদয় হাসান নামের এক ব্যক্তি। নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটিশের প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন জনসভায় আমির হামজা দাবি করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার জন্য মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাকে ৫০ কোটি টাকার ঘুষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিজের অবস্থান থেকে সরবেন না বলেও দৃঢ়ভাবে জানান। তার এই বক্তব্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় আইন এবং শরীয়াহ আইনের দৃষ্টিতে ঘুষ প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ই সমানভাবে অপরাধী। সেখানে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য হিসেবে আমির হামজা যদি সত্যিই ঘুষের প্রস্তাব পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশ করা বা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করা তার নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, শুধুমাত্র নিজের সততা প্রদর্শনের জন্য ঘুষ গ্রহণ না করার বিষয়টি প্রচার করা যথেষ্ট নয়। বরং যারা এ ধরনের বড় অঙ্কের ঘুষ প্রস্তাব দিয়েছে, তাদের পরিচয় গোপন রাখা বা আইনের আওতায় না আনা আইনগতভাবে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল হতে পারে।
আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, বর্তমান সরকার যখন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, তখন একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে আরও বেশি দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। তিনি মনে করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হলে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ করা জরুরি।
এদিকে নোটিশ প্রদানকারী পক্ষ কুষ্টিয়াবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, জনগণের আস্থা রক্ষা করতে হলে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে এ ধরনের অভিযোগের পূর্ণ সত্য উন্মোচন করা প্রয়োজন।
নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে যদি ঘুষ প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশ বা আইনের আওতায় আনার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া ও জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি এখন শুধু একটি বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আইনি ও নৈতিক জবাবদিহিতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।