
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে একটি দোকানে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দোকান থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯ লিটার ডিজেল ও পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলার সোনামুখী বাজারের পূর্বপাশে অবস্থিত ‘মেসার্স এসআর ফুয়েল ট্রেডার্স’ নামের দোকানে অভিযান চালানো হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে দোকান থেকে ৫টি ড্রামে মজুদ করা প্রায় ১ হাজার ৩৩ লিটার পেট্রল এবং ৬৯৪ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এসব জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল বলে জানায় প্রশাসন।
অভিযানের সময় দোকান মালিক শাহা আলম (৩২) জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও মজুদের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি সোনামুখী ইউনিয়নের রৌহাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আজাহার আলীর ছেলে। পরবর্তীতে তিনি আদালতের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেন।
এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ২০(১) (ক) ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে। অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ করে ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত গোপনে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। তিনি প্রতি লিটার ডিজেল ১৫০ টাকা এবং পেট্রল ২২০ টাকা দরে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযানে জব্দকৃত জ্বালানি তেল সিরাজগঞ্জের একটি পাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া তেল বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে।