
দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাকি তিন মাসের মধ্যে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড—এই দুটি উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। গত ১০ মার্চ থেকে ১৩টি জেলার কয়েকটি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের মোট ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ডের মাধ্যমে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি সরাসরি নারীপ্রধান পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, এতে করে পরিবারের আর্থিক সহায়তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। খাদ্য, পুষ্টি, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক খাতে এই সহায়তা ব্যয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ, কার্ডটি নারী সদস্যের নামে প্রদান করা হলে পরিবারের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় তার অংশগ্রহণ বাড়বে। এর ফলে পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা আরও দৃঢ় হবে এবং সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিকে ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত করা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, কৃষকদের জন্য চালু করা কৃষক কার্ড কর্মসূচিও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই দুই কর্মসূচি একসঙ্গে কাজ করলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং উৎপাদন ও ভোগ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করে। তবে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সর্বোপরি, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দরিদ্র পরিবারগুলো সহায়তা পাবে, অন্যদিকে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।