
বাংলাদেশের আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী-এর অস্ট্রেলিয়া সফর হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ তার ভিসা বাতিল করে দিয়েছে এবং বর্তমানে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এই ঘটনা প্রথম প্রকাশ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম Daily Mail। তাদের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ শীর্ষক ধারাবাহিক বক্তব্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজহারী ইস্টার ছুটির সময় অস্ট্রেলিয়া সফরে ছিলেন। সফরের সূচিতে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরা শহরে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
সোমবার রাতে ব্রিসবেনে তার সফর শুরু হলেও মঙ্গলবার হঠাৎ করেই তার ভিসা বাতিল করা হয়। এরপর থেকে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজহারীর বিরুদ্ধে উগ্রবাদী এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশেও তার জনসভায় বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। লিবারেল দলের সিনেটর Jonathan Duniam জানিয়েছেন, আজহারীর আগমন নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এ বিষয়ে বার্তা পেয়েছিলেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার প্রয়োজন ছিল।
ডানিয়াম আরও অভিযোগ করেন, আজহারীর অতীত বক্তব্যে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রবণতা স্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে আজহারী ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংগঠন Australian Federation for Ethnic and Religious Minorities in Bangladesh সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, তার বক্তব্য ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং উগ্র মতাদর্শকে উৎসাহিত করতে পারে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আজহারীর অতীত বক্তব্যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার, সহিংসতার প্রশংসা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্যের বহু উদাহরণ রয়েছে। এসব কারণে তার সফর নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, এত বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তাকে কীভাবে ভিসা দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
সবমিলিয়ে, সফরের শুরুতেই ভিসা বাতিল হওয়ায় আজহারীর অস্ট্রেলিয়া সফর কার্যত শেষ হয়ে গেছে। এখন তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।