
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি টানা ৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার মূল লক্ষ্য ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিকে ত্বরান্বিত করা। সমিতির আহবায়ক আবদুল মালেক মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানান, ২০১৫ সালে ৮ম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের খরচের তুলনায় যথেষ্ট কমে গেছে।
সমিতি মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ৯ম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এই দাবির বাস্তবায়নের জন্য তারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে আহবায়ক আবদুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশব্যাপী কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিটি জেলা শহরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপর ১০ এপ্রিল উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে শান্তিপূর্ণ আলোচনাসভা এবং প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সমিতি সরকারের নজর আকর্ষণ করে দ্রুত পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মনোযোগ দিতে চায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত ৯ম পে স্কেল কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করা হচ্ছে। গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থ সচিব এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।
সমিতির নেতারা মনে করেন, বর্তমান সময়ে কর্মচারীদের আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মানে প্রভাব ফেলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ও বিদ্যুতের খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এজন্য সমিতি দ্রুত ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে সমিতি আশা করছে যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা সমস্যার গুরুত্ব বুঝবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সমিতি সদস্যদের মতে, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও এটি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সমিতি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই কর্মসূচি কার্যকর করবে এবং আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে স্কেল অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।