
সম্প্রতি দিঘার তালসারিতে শুটিং চলাকালে টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর ঘটনা শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর চলচ্চিত্র জগতে অতীতের কিছু বিপজ্জনক অভিজ্ঞতাও সামনে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্ত-এর এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, যেখানে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন তিনি।
ঘटनাটি ২০০৩ সালের জনপ্রিয় সিনেমা আন্দাজ-এর শুটিং চলাকালীন সময়ের। দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্র উপকূলে ছবির একটি রোমান্টিক গানের দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল। দৃশ্যটি বাস্তবসম্মত করতে লারাকে সমুদ্রের মাঝে একটি পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে অভিনয় করতে হয়। তবে এই শুটিংয়ের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—লারা তখন সাঁতার জানতেন না।
শুটিং চলাকালে হঠাৎই একটি বিশাল ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। অপ্রস্তুত অবস্থায় থাকা লারা ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান। তিনি তখন চামড়ার তৈরি ভারী পোশাক পরা ছিলেন, যা পানিতে ভিজে আরও ভারী হয়ে যায়। ফলে তিনি দ্রুত পানির নিচে তলিয়ে যেতে থাকেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, তার নিজের পক্ষে সেখান থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে আসেন সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমার। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তাল সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে দ্রুত সাঁতরে গিয়ে তিনি লারাকে খুঁজে পান এবং তাকে শক্তভাবে ধরে উপরে তুলে আনেন। এরপর সেটে থাকা অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে লারাকে নিরাপদে তীরে নিয়ে যান।
এই ঘটনাটি লারা দত্তের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসার এই অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে গভীর পানি বা সমুদ্রের প্রতি তার মধ্যে এক ধরনের তীব্র ভয় তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ফোবিয়ায় রূপ নেয়।
পরবর্তী সময়ে তিনি যখন ব্লু সিনেমায় কাজ করেন, তখন সেই ভয় আবার সামনে আসে। কারণ, এই ছবির বেশিরভাগ দৃশ্যই পানির নিচে ধারণ করা হয়েছিল। শুটিংয়ের সময় তিনি চরম আতঙ্কে ছিলেন। তবে ধীরে ধীরে নিজের ভয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন তিনি।
এই ক্ষেত্রে অক্ষয় কুমারের পরামর্শ তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার উৎসাহেই লারা পরে সাঁতার শেখেন এবং পানির প্রতি নিজের ভয় জয় করার চেষ্টা শুরু করেন। যদিও সেই ভয় পুরোপুরি দূর হয়নি, তবুও তিনি নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার চেষ্টা চালিয়ে যান।
এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং শুটিং সেটে নিরাপত্তার গুরুত্বের একটি বড় উদাহরণ। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য ধারণের সময় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জরুরি, তা এই ঘটনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।