
বকেয়া বিলের জটিলতাকে কেন্দ্র করে দেশের ২০টি সরকারি শিশু ডে-কেয়ার সেন্টারে খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাময়িকভাবে অভিভাবকদের নিজ দায়িত্বে শিশুদের জন্য খাবার নিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ১ এপ্রিল থেকে খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা গেছে, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ‘২০টি শিশু ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় এসব কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হলেও তা আরও এক বছর বাড়ানো হয়। তবে মেয়াদ বাড়ানোর পর ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তির নবায়ন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) বৈঠকে ঠিকাদারদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ অনুমোদন না হওয়ায় সমস্যা আরও গভীর হয়। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার সরবরাহ চালিয়ে গেলেও গত ৯ মাস ধরে তারা কোনো বিল পায়নি।
সূত্র জানায়, দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ সোয়া কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টাকা এবং অন্যটির বকেয়া প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ লাখ টাকা।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের শিশুদের জন্য খাবার নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁও, পান্থপথ ও তেজগাঁওসহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে একই ধরনের বার্তা পাঠানো হয়েছে।
একজন অভিভাবক জানান, হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। এতদিন কেন্দ্র থেকেই শিশুদের জন্য দুধ, পাউরুটি, রান্না করা খাবার এবং বিকেলের নাশতা দেওয়া হতো। এখন শিশুদের সারাদিনের খাবার প্রস্তুত করে পাঠানো তাদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রগুলোর কর্মকর্তারাও সমস্যায় পড়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আগে নির্দিষ্ট নিয়মে শিশুদের খাবার দেওয়া হতো, কিন্তু এখন অভিভাবকদের আনা ভিন্ন ভিন্ন খাবার ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে কর্মচারীদেরও কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জানা গেছে, এসব ডে-কেয়ার সেন্টারে ৪ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাখা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রায় ৬০টি আসন রয়েছে এবং মাসিক সেবামূল্য নির্ধারিত রয়েছে অভিভাবকদের আয়ের ভিত্তিতে।
সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে এবং শিশুদের জন্য স্বাভাবিক খাদ্য সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।