
রাজধানী ঢাকার পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার কিছুটা সমাধান করতে আজ বুধবার থেকে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ফুটপাত ও সড়কের একাংশ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরীর আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে রমনা এলাকা থেকে অভিযান শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ রেস্টুরেন্ট, ওয়ার্কশপ ও অন্যান্য স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, এই অভিযান সাধারণ হকারদের বিরুদ্ধে নয়। বরং যেসব বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ফুটপাত দখল করে স্থায়ী কাঠামো তৈরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় ভবিষ্যতে হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে তারা বিকল্পভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
এর আগে ডিএমপির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রেস্টুরেন্টের রান্নার সরঞ্জাম, ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি এবং দোকানের মালামাল ফুটপাত ও সড়কের ওপর রাখার কারণে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশেষ করে মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো প্রায়ই সড়কের একটি লেন দখল করে মেরামত কাজ চালায়, যা কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে।
ডিএমপি সতর্ক করে জানিয়েছে, যারা এখনো অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে আছেন, তাদের দ্রুত নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।