
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন Sundarbans-এ বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে মধু আহরণ মৌসুম। প্রতি বছরের মতো এবারও মৌয়ালরা অনুমতিপত্র নিয়ে সুন্দরবনের গভীরে প্রবেশ করে মধু সংগ্রহ করবেন।
সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রা ও দাকোপ এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মানুষের জীবিকা অনেকটাই এই বনের ওপর নির্ভরশীল। মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ এবং মধু আহরণই এসব অঞ্চলের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস।
মৌসুমের প্রথম দিন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের দুটি রেঞ্জ থেকে মৌয়ালদের জন্য অনুমতিপত্র ও নৌযানের পাস দেওয়া হবে। এসব পাস নিয়ে মৌয়ালরা দলবদ্ধভাবে বনের ভেতরে প্রবেশ করবেন।
তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার মধু আহরণে আগ্রহ কিছুটা কমেছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বনদস্যুদের উৎপাত এবং অনিরাপদ পরিবেশকে দায়ী করা হচ্ছে।
মৌয়াল লুৎফার রহমান জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারা অনুমতি পেয়েছেন। তিনি বলেন, “৬ জনের দল নিয়ে ১৫ দিনের জন্য বনে যাচ্ছি। কিন্তু ডাকাত আতঙ্ক আর বৃষ্টি কম হওয়ায় চিন্তায় আছি।”
স্থানীয় জেলে ও বাওয়ালিরা জানান, সুন্দরবনে একাধিক বনদস্যু দল সক্রিয় থাকায় তারা অনেক সময় মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হন। যোগাযোগ না করে বনে প্রবেশ করলে হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
অন্যদিকে আবহাওয়াজনিত সমস্যাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমের শুরুতে খলিশা ফুলের মধু পাওয়া যায়, যা সবচেয়ে উন্নতমানের। পরে গরান, কেওড়া ও ছইলা ফুলের মধু আসে। তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে ফুল ঝরে যায় এবং মধু জমতে পারে না।
মৌয়াল মোকছেদ আলী জানান, ঋণ নিয়ে তারা বনে যাচ্ছেন। যদি মধু না পান, তাহলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে ডাকাতদের ঝুঁকিও রয়েছে।
এছাড়া অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা আগেই চুরি করে মৌচাক কেটে নেয়। ফলে বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে যাওয়ার পর মৌয়ালরা পর্যাপ্ত মধু পান না।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সুন্দরবনে মধু আহরণের পরিমাণ ওঠানামা করেছে। চুরি এবং আগাম চাক কাটার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা তৈরি হচ্ছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেড এম হাসানুর রহমান জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে মৌয়ালদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বছর খুলনা রেঞ্জে ৭০০ কুইন্টাল মধু ও ২১০ কুইন্টাল মোম এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১১০০ কুইন্টাল মধু ও ৬০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জীবিকার তাগিদে মৌয়ালরা বনে প্রবেশ করলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।