
বিশ্বের সবচেয়ে বড় আদমশুমারি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে India। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ৩০ লাখ কর্মকর্তা অংশ নেবেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি এক বছর ধরে চলবে।
ভারতের আনুমানিক ১৪০ কোটি মানুষের তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগকে সরকার ‘জাতীয় গুরুত্বের একটি বিশাল প্রকল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রায় ১.২৪ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থা আরও কার্যকর করা এবং সঠিক তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের বড় শহরগুলোতে পানি সংকট, বায়ু ও জল দূষণ, আবাসন সমস্যা এবং জনাকীর্ণতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় নির্ভুল জনসংখ্যা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই আদমশুমারি দুই ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে, যা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবাসন, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্ব-গণনার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা স্যাটেলাইট চিত্রভিত্তিক একটি অ্যাপের মাধ্যমে করা যাবে। এই অ্যাপটি ১৬টি ভাষায় উপলব্ধ থাকবে।
দ্বিতীয় ধাপে জনসংখ্যার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বর্ণভিত্তিক তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভারতের সমাজব্যবস্থায় বর্ণ এখনো শিক্ষা, সম্পদ ও সুযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের বর্ণভিত্তিক সমীক্ষার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে সর্বশেষ বিস্তৃত বর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এই আদমশুমারি ২০২৭ সালের ১ মার্চের আগেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উচ্চ হিমালয় অঞ্চল ও বিতর্কিত জম্মু-কাশ্মীর এলাকাতেও তুষারপাতের আগে কাজ সম্পন্ন করা যায়।
এর আগে ২০২১ সালের আদমশুমারি কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে স্থগিত হয়ে যায়। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১.২১ বিলিয়ন। আর United Nations-এর ২০২৩ সালের অনুমান অনুযায়ী, ভারত চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভারতের এই বৃহৎ আদমশুমারি কার্যক্রম শুধু দেশটির জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।