
মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক Sheikh Mamun Khaled-এর দ্বিতীয় দফায় আরও ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট Jewel Rana শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানির সময় মামুন খালেদ আদালতে অভিযোগ করে বলেন, তাকে রিমান্ডে নিয়ে ১২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবন ও একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, তিনি একজন কমিউনিকেশন অফিসার এবং দীর্ঘ সময় একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
অন্যদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে আরও রিমান্ড প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, তদন্তের স্বার্থে আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তবে তিনি কোন বিষয়গুলো নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তা প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তিনি যুক্তি দেন, মামুন খালেদ ২০২০ সালে অবসর নিয়েছেন এবং তার কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল না। এছাড়া পূর্ববর্তী রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে নতুন করে রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেন তিনি।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর পুলিশ প্রহরায় তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ মার্চ আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণে দেলোয়ার হোসেন আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।