
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ISNA জানিয়েছে, মারকাজি প্রদেশের মাহাল্লাত শহরে এক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সংবাদ সংস্থাটি জানায়, মাহাল্লাত শহরের অন্তত তিনটি আবাসিক ইউনিটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়।
একই সময় তেহরান এবং মধ্য ইসফাহান অঞ্চলেও মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ইরানি সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে তেহরানের পশ্চিম উপকণ্ঠে অবস্থিত ভার্দাভার্দ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে তাদের ফারসি ভাষার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া বার্তায় বাসিন্দাদের আগামী চার ঘণ্টা ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে এবং এলাকা ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ যেন ওই এলাকার আশপাশে না যায়। তবে চলমান ব্ল্যাকআউটের কারণে ইরানের অনেক নাগরিক ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় এই বার্তা সবার কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে, লেবাননেও ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির নাবাতিয়া অঞ্চলে রাতভর বিমান হামলায় একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর আব্বা শহরে চালানো এক হামলায় শাদি হাসান মোয়াল্লেম নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া দুয়াইর শহরসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ভারী বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আবাসিক ভবন ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত আকার নিচ্ছে এবং এর প্রভাব আশপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।