
দেশে চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শিক্ষা খাতেও। এই পরিস্থিতিতে স্কুল পর্যায়ের পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী A N M Ehsanul Haque Milon।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে স্কুলের ক্লাস কীভাবে নিয়মিত চালু রাখা যায়, তা নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এ ক্ষেত্রে অনলাইন এবং সশরীরে—এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে ক্লাস পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেশের বিভিন্ন খাতে পড়ছে। শিক্ষা খাত যাতে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকে, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অনলাইন ও সশরীরে ক্লাস—এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে কীভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।’ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক ধরণের হাইব্রিড মডেল চালুর পথ তৈরি করতে পারে। এর আগে করোনা মহামারির সময় অনলাইন শিক্ষার যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে, সেটিও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এ ধরনের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ইন্টারনেট সংযোগ এবং শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকটের মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার যে বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে, তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।