
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন, Strait of Hormuz বন্ধ থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান শেষ করতে চান।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে সরাসরি সামরিক অভিযান চালালে সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমা অতিক্রম করার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আপাতত এই জলপথ খোলাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্য লক্ষ্যকে সামনে রাখা হচ্ছে।
বর্তমান কৌশল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হবে ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে দুর্বল করা এবং সামগ্রিক উত্তেজনা কমানো। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে বাধ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, যাতে তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। Brookings Institution-এর ইরান বিশেষজ্ঞ সুজান মেলোনি মনে করেন, হরমুজ প্রণালি খোলার আগেই সামরিক অভিযান বন্ধ করা দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারে। তার মতে, এই জলপথ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং সেই প্রভাব থেকে যুক্তরাষ্ট্রও মুক্ত থাকবে না।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন জ্বালানি তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ USS Tripoli এবং ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি 82nd Airborne Division-এর সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে এবং আরও হাজার হাজার সেনা পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বললেও অন্যদিকে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের তেলক্ষেত্র ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হতে পারে।
এদিকে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই জলপথ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক দেশ ইতোমধ্যে সংকটে পড়েছে। পাশাপাশি সার, গ্যাস এবং শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ করার এই কৌশল স্বল্পমেয়াদে সংঘাত কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব গুরুতর হতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি খোলা ছাড়াই যুদ্ধ শেষ করার এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে—যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।