
ইরান ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি শেয়ারবাজার ও বন্ড বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে এর প্রভাব বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
জ্বালানি তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড Brent Crude-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২.৫৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। মাত্র এক মাস আগেও এই দাম ছিল প্রায় ৭৩ ডলার। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হলো পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা এবং তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য হামলার ভয়। এই দুটি কারণই বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচক Dow Jones Industrial Average এবং S&P 500 ২০২২ সালের পর তাদের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে। প্রযুক্তিনির্ভর Nasdaq Composite-ও বড় পতনের মুখে পড়েছে। ডাও জোন্স সূচক ইতোমধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন নতুন করে বিনিয়োগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন।
শেয়ারবাজারের পাশাপাশি বন্ড বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বা ইল্ড বেড়ে ৪.৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বছরের শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর দিকে যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে। বরং সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা বা বাড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এড এগিলিনস্কি বলেন, এই সংঘাত বিশ্ববাজারের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তার মতে, বাজার এখন এতটাই অনিশ্চিত যে দাম যেকোনো সময় যেকোনো দিকে যেতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে ধস এবং ঋণের খরচ বাড়ার মতো বিষয়গুলো আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।