
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনায় সমঝোতা না হলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হতে পারে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং খার্ক দ্বীপে হামলা চালানো হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, একটি নতুন ও যুক্তিসংগত নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সীমিত যোগাযোগ চলছে বলে তেহরান স্বীকার করেছে। ইরানের মতে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবসম্মত নয় এবং তাদের সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মার্কিন প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি, পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে ইরান পাল্টা কিছু দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সব ধরনের হামলা বন্ধ, অতীত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।