
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স। তার মতে, চলমান সংঘাতে আমিরাত অংশ নিলে দুবাই ও আবুধাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীগুলো সরাসরি ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সোমবার (৩০ মার্চ) Asian News International-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুবাই এবং আবুধাবি মূলত পর্যটন, বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এগুলো কোনো শক্তিশালী সামরিক প্রতিরক্ষা বলয়ে আবদ্ধ নয়। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এসব শহর সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
স্যাক্সের মতে, এসব নগরী মূলত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের কেন্দ্র। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতায় এই কাঠামো টেকসই নয়। তিনি বলেন, যুদ্ধে জড়ানো মানেই হবে এই শহরগুলোর মূল উদ্দেশ্যকেই নষ্ট করে দেওয়া।
তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানকেও সমালোচনা করেন। বিশেষ করে Abraham Accords-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলাকে তিনি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্যাক্স সাবেক মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার-এর একটি মন্তব্য তুলে ধরে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু বন্ধু হওয়া প্রাণঘাতী।” তার মতে, এই উক্তি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকটাই প্রাসঙ্গিক।
তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক সুরক্ষার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে। তারা ধারণা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা সেই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এদিকে ইরান ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি যদি তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগ্রাসনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
স্যাক্স আমিরাতকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, একটি “হেরে যাওয়া বাজি”-তে বিনিয়োগ না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। তার মতে, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জেফরি স্যাক্সের এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই ও আবুধাবির মতো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো যদি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পড়ে, তবে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।