
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দামের সমন্বয় হয়েছে। সর্বশেষ নির্ধারিত দামে সোমবার (৩০ মার্চ) দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
বাজুসের তথ্যমতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির কারণে নতুন করে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে কার্যকর হওয়া দামই আজও বহাল রয়েছে।
বর্তমান মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা।
চলতি বছর স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে, আর ২১ দফায় কমানো হয়েছে।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে স্বর্ণের বাজারে আরও বেশি ওঠানামা দেখা যায়। সে বছর মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস করা হয়।
শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার বাজারেও দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৯ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৩ দফায় কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩ বার হ্রাস করা হয়।
বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৩৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১৩২ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম রয়েছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।
স্বর্ণ ও রুপার দামে ঘন ঘন পরিবর্তন বাজারের অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের মূল্য এবং স্থানীয় চাহিদা-যোগানের ওপর ভিত্তি করে এসব মূল্য নির্ধারিত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা বা বিক্রির আগে সর্বশেষ মূল্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।