
মাদারীপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় মাদারীপুর পৌর শহরের থানতলী এলাকায় প্রথম দফায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে রাত এবং সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠানে চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। থানতলী এলাকার ফজল খাঁ’র ছেলে আকিব এবং পাকদী এলাকার দবির মুন্সির ছেলে মঈন মুন্সির মধ্যে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত অতিথিরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করলেও পরবর্তীতে ওই ঘটনার জের ধরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
পরদিন সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৯টার দিকে আবারও সংঘর্ষ বাধে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি।
এরপর সোমবার ভোররাতে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পাকদী এলাকায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহত হন অন্তত পাঁচজন, যাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সব মিলিয়ে, তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।