
দেশব্যাপী জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই সময়ে মোট ৩৮৬টি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ২১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অর্থদণ্ড হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৯ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মার্চ দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হয়। এসব অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিযানগুলোতে মূলত জ্বালানি তেলের মজুত, বিক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা আছে কি না, তা তদারকি করা হয়। একই সঙ্গে বাজারে জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত রাখার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরা মহানগর এলাকাগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। তাদের এই তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কালোবাজারি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, জ্বালানি খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ফলে যারা অনিয়মে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ধরনের সমন্বিত অভিযান দেশের জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এতে ভোক্তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রবণতা কমে আসবে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের এই ধারাবাহিক অভিযান গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।