
পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে যানবাহনের ভাড়া এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ানো অতিরিক্ত ভাড়া এখনো বহাল থাকায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়া থেকে কুমিল্লা রুটে যেখানে আগে ভাড়া ছিল ৬০ টাকা, সেখানে বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই ভাড়া আরও বেড়ে যায়।
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে অনেক সময় চালকরা যাত্রী তুলতে অনীহা দেখান। এতে করে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, আগে সড়কের খারাপ অবস্থাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে ভাড়া বাড়ানো হলেও বর্তমানে অনেকাংশে সড়ক সংস্কার হয়েছে। তবুও ভাড়া কমানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং ঈদের সময়ের বাড়তি ভাড়াকে স্থায়ী করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে অনেক সময় চালকদের অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে নারী ও পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনেকেই ন্যায্য ভাড়ায় যানবাহন না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিছু অসাধু চালক সিন্ডিকেট তৈরি করে এই ভাড়া নৈরাজ্য চালাচ্ছেন। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। যদিও মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হয়, তবে তা স্থায়ী কোনো প্রভাব ফেলছে না।
অন্যদিকে চালকদের দাবি, ঈদের সময় যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া এলাকায় গ্যাস স্টেশন না থাকা, দূর থেকে গ্যাস সংগ্রহ এবং যানবাহনের যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির কারণে আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে ভোগান্তির কথা জানিয়ে এক যাত্রী বলেন, পরিবার নিয়ে বাড়ি এসে এখন বাড়তি ভাড়া দিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এই সড়কে ভাড়ার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা কার্যকর করা, নিয়মিত মনিটরিং বৃদ্ধি এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান জানিয়েছেন, উৎসবকেন্দ্রিক ভাড়া বৃদ্ধি একটি নিয়মিত সমস্যা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, ঈদের পরও ভাড়া স্বাভাবিক না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সমস্যা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।