
দেশের স্বর্ণের বাজারে একদিনেই বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দুই দফায় সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ভালো মানের সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই বাড়তি দাম রবিবারও বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, শনিবার সকালে প্রথম দফায় প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১৫৭ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা। তবে একই দিনে বিকেলে আবারও দাম বাড়ানো হয়।
দ্বিতীয় দফায় বিকেলে প্রতি ভরিতে আরও ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। এই নতুন দাম শনিবার বিকেল থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং আজ রবিবারও একই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে।
শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকায়।
এই দাম পরিবর্তনের ফলে স্বর্ণের বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একদিনে দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি সাধারণত খুব কমই দেখা যায়, যা বাজারে বিশেষ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, সোনার দামে পরিবর্তন এলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম রয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম রয়েছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এলেও রুপার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। এতে করে মূল্যবান ধাতুর বাজারে ভিন্নধর্মী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দেশের বাজারে সোনার দাম একদিনে দুই দফায় বাড়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে নির্ধারিত এই দাম কতদিন স্থায়ী থাকবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।