
২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা সময় বৃদ্ধির আবেদন জানাচ্ছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি করদাতা অনলাইনের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন।
রবিবার (২৯ মার্চ) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সীমা সামনে থাকলেও অনেক করদাতা এখনো রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করতে পারেননি, ফলে তারা অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করছেন।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি করবর্ষে ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৪১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি করদাতা সফলভাবে অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এটি ই-রিটার্ন ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
তিন দফা সময় বাড়ানোর পর এনবিআর আগামী ৩১ মার্চকে রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে যারা রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, তাদের জন্য অনলাইনে সময় বৃদ্ধির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে অতিরিক্ত সময় পাওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও রয়েছে। করদাতাদের অবশ্যই ৩১ মার্চের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন না করে রিটার্ন দাখিল করলে জরিমানা গুনতে হতে পারে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে একজন করদাতা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পেতে পারেন। এই আবেদন প্রক্রিয়া ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে সহজেই সম্পন্ন করা যাচ্ছে। করদাতারা সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেন্যু ব্যবহার করে আবেদন জমা দিতে পারছেন।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, সময় বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো ধরনের জরিমানা বা অতিরিক্ত কর দিতে হবে না। ফলে যারা সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না, তাদের জন্য এই সুযোগটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া আবেদন করার আগে করদাতাদের কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নিজ নামে নিবন্ধিত বায়োমেট্রিক সিম ব্যবহার করে ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন থাকতে হবে। এটি অনলাইন প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য রাখার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, যারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়েন না, তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে লিখিতভাবে সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন। এতে করে বিভিন্ন শ্রেণির করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজতর করা হয়েছে।
সবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, অতিরিক্ত কর বা জরিমানা এড়াতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই রিটার্ন দাখিল করার জন্য। তবে যারা একান্তই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করতে অপারগ, তাদের দ্রুত অনলাইনে সময় বৃদ্ধির আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।