
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বাণিজ্য প্রবাহ বজায় রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ লক্ষ্য পূরণে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান ইরানকে ঘিরে সংঘাত বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও মানবিক সংকট আরও গভীর করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, সংঘাত কমাতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিল্ভা। তার নেতৃত্বে গঠিত এই টিম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহ সচল রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করবে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তারা আগের কিছু সফল প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে। বিশেষ করে ইউক্রেনের ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ এবং গাজা অঞ্চলে কার্যকর হওয়া ইউএন২৭২০ মেকানিজম থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে।
মুখপাত্র আরও বলেন, টাস্কফোর্সটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করবে। এই উদ্যোগকে সফল করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে জাতিসংঘ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো মানবিক বিবেচনায় এ উদ্যোগকে সমর্থন জানাবে, বিশেষ করে সেইসব মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে, যারা ইতোমধ্যেই সংকটের প্রভাব অনুভব করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়বে এবং খাদ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে জানিয়েছে, সংঘাত যদি জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহলে বিশ্বের কয়েক কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য প্রবাহ সচল রাখা এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।