
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় পরকীয়ার জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি লিচু বাগান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত তাইজুল ইসলাম তাজেম স্থানীয় আবুল কাশেমের ছেলে। স্বজনদের দাবি, পারিবারিক বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজেমের স্ত্রী শান্তার সঙ্গে প্রতিবেশী মিরাজের পরকীয়ার সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর তাদের সংসারে ভাঙন ধরে। পরে তাজেম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন। এই ঘটনার পর থেকেই মিরাজের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা সময়ের সঙ্গে আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
স্বজনদের অভিযোগ, সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাজেমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, কুমারখালীর দুর্গাপুর-মির্জাপুর সড়কের পাশে অবস্থিত বুজরুক বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি লিচু বাগানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে।
নিহতের চাচাতো ভাই বিপুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাজেমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম নেমে আসে। বাবা আবুল কাশেম আহাজারি করতে করতে বলেন, তার ছেলেকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি এই হত্যার বিচার দাবি করেন। মা সাহিদা খাতুনও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এর জেরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত মিরাজ ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।