
আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো কেন্দ্রে নকল বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই নয়, কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষা হবে শতভাগ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু। পরীক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
গ্রেস মার্ক বা অনুকম্পার সুযোগ বন্ধের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার থেকে খাতায় কোনো ধরনের গ্রেস মার্ক দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর পাবে। আমরা চাই প্রকৃত মেধার প্রতিযোগিতা হোক।’
তিনি আরও বলেন, অযোগ্য শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‘অটোপাস’ ব্যবস্থা আর চালু করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
পরীক্ষা কেন্দ্রে নজরদারি বাড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) বসানো হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে সব কেন্দ্রে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে ‘হেলিকপ্টার মিশন’-এর মাধ্যমে হঠাৎ করে যেকোনো কেন্দ্র পরিদর্শন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল এবং পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
এছাড়া খাতা মূল্যায়নেও কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য দেখানো হবে না। পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে মূল্যায়ন ব্যবস্থাও কঠোর করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে সব শিক্ষা বোর্ডের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা চেয়েছেন। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভির পাশাপাশি ‘লাইভ মনিটরিং’ চালু করা হবে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নতুন সরকারের অধীনে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।