
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংশ্লিষ্টদের প্রতি অতিউৎসাহী হয়ে কোনো কাজ করতে গিয়ে সরকারি সম্পদ নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাব থাকলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়ে এবং সরকারি সম্পদের অপচয় ঘটে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে বগুড়া শহরের শাকপালা এলাকায় অবস্থিত সিঅ্যান্ডবি পার্ক (শাকপালা পার্ক) পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দূরে অবস্থান করেও বগুড়ার এই পার্কের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন, যা তার এলাকার প্রতি আন্তরিকতার প্রমাণ। তবে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত তৎপর হয়ে যেন অপ্রয়োজনীয় কাজ না করা হয়।
তিনি বলেন, ‘এতে সরকারের ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং কাজের গুণগত মান বজায় থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও ঠিক থাকবে।’
পার্কটির মালিকানা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, শুরু থেকেই এটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন ছিল। জেলা প্রশাসন উন্নয়নের উদ্যোগ নিলেও অর্থসংকটে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এখন পার্কটির সম্পূর্ণ দায়িত্ব সওজ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র হস্তান্তরও সম্পন্ন হয়েছে।
পৌরসভার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনস্বার্থে কিছু কাজ করা হলেও প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া হয়নি। তাই আজ থেকে পৌরসভার সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে উন্নয়ন ব্যয় সওজ বিভাগ নির্ধারণ করবে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী পার্কে নিমগাছের আধিক্য রাখার নির্দেশ দেন, যাতে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকে।
বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে প্রায় ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার দূরে শাকপালা ও ফুলতলার মাঝামাঝি এলাকায় প্রায় ৭ দশমিক ০৪ একর জমির ওপর ২০০৪-০৫ সালে পার্কটি নির্মিত হয়। তবে দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহে পার্কটি পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে তিনি মহাস্থানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শনসহ শিবগঞ্জে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।