
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বিশেষ অবস্থানে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে সক্ষম একমাত্র প্রধান রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশটি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করছে।
ইরানের প্রধান অপরিশোধিত তেল মূলত চীনে রপ্তানি করা হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরানি তেলের দাম এই বছরের মধ্যে কিছুটা কম থাকলেও, উচ্চ রপ্তানি ভলিউম এবং বাড়তি বিক্রয়মূল্য দেশটির জন্য বড় আয়ের উৎস হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাসে ইরানের দৈনিক তেল রপ্তানি প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের সমান। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন ডলার আয় করছে দেশটি, যা ফেব্রুয়ারির ১১৫ মিলিয়নের চেয়ে বেশি।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বও এখানে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। ইরান উপসাগরের অন্যান্য দেশগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধকে এভাবে খর্ব করছে। ট্যাংকার এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যবহার করে খার্গ দ্বীপ ও জাস্ক টার্মিনাল থেকে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। কিছু জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি আরোপ করাও ইরানের অতিরিক্ত আয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান যুদ্ধের সময় তার তেল ও গ্যাস অবকাঠামোকে হামলা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোর অবকাঠামো ধ্বংসের শিকার হয়েছে। এতে উৎপাদন কমে গেছে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের অবকাঠামো অক্ষত থাকায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল থাকায়, তেহরান অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থায় ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে প্রাপ্ত ক্ষতি পূরণ এবং অর্থনীতি পুনর্গঠনসহ মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম চালানোর জন্য যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
অতএব, যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং তেলের উচ্চ বিক্রয়মূল্য ইরানের জন্য আকাশছোঁয়া আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে, তবে বর্তমানে ইরান যুদ্ধের মধ্যে অবস্থান থেকে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে।