
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বোরো ধানের জমিতে গরু প্রবেশ করে ফসল নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার নায়েকপুর হাওরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষক বাচ্চু তালুকদার (৬০) নায়েকপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত জাহেদ তালুকদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বাচ্চু তালুকদার মাখনা গ্রামের পাশের নায়েকপুর হাওরে একটি বন্ধকি জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। ধান পাকায় তিনি কয়েকদিনের মধ্যেই তা কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে কিছুদিন ধরে পাশের গ্রামের কয়েকজনের গরু নিয়মিত তার জমিতে ঢুকে ধান খেয়ে ফসল নষ্ট করছিল।
এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার গরুর মালিকদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। এতে করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জমছিল।
ঘটনার দিন বিকেলে তিনি জমিতে গিয়ে দেখেন, তার ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ঠিক সেই সময় মাখনা গ্রামের করিল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।
এক পর্যায়ে অভিযোগ অনুযায়ী করিল ইসলাম ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাচ্চু তালুকদারের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। হামলার একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
খবর পেয়ে মদন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকায় জমি ও ফসল সংক্রান্ত বিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেয়, যার ফলশ্রুতিতে প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মতে, সময়মতো প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করা গেলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
এই হত্যাকাণ্ড এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে কৃষকদের নিরাপত্তা এবং ফসল রক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার দাবি করেছে এবং দোষীদের শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা—ক্ষুদ্র বিরোধকে অবহেলা না করে সময়মতো সমাধান করা জরুরি। অন্যথায় তা ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।