
সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে জিহাদ (১১) নামে এক শিশু। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন পিয়াইন নদীতে গোসল করতে নেমে সে পানিতে ডুবে যায়। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জিহাদ নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার পুটিয়া এলাকার বাসিন্দা জুয়েল মিয়ার ছেলে। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দভ্রমণে এসে এমন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিহাদ তার দাদিসহ একটি পর্যটক দলের সঙ্গে বাসে করে নরসিংদী থেকে জাফলংয়ে বেড়াতে আসে। শুক্রবার সকালে তারা জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। দুপুরের দিকে জিহাদসহ কয়েকজন শিশু নদীতে গোসল করতে নামে।
এক পর্যায়ে পিয়াইন নদীর প্রবল স্রোতের টানে জিহাদ হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিছু সময় পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিহাদকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের এই ঘোষণার পর তার স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের মাতম। একটি আনন্দ ভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হয় গভীর বেদনায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জাফলং দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিনই এখানে অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়ে যায়। তবে নদীর স্রোত অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, যা অনেকেই সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন না।
স্থানীয়দের মতে, পর্যটকদের অনেকেই নিরাপত্তা বিধি না মেনে নদীতে নেমে পড়েন, যার ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি জাফলংয়ের মতো স্থানে লুকিয়ে থাকে সম্ভাব্য ঝুঁকিও। সঠিক সতর্কতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে আনন্দ ভ্রমণ মুহূর্তেই দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক নির্দেশনা আরও দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করা। একই সঙ্গে পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে এবং বিশেষ করে শিশুদের নদীতে নামানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
জিহাদের এই করুণ মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, বরং সবার জন্যই একটি সতর্কবার্তা হয়ে রইল। আনন্দ ভ্রমণে গিয়ে যেন আর কোনো পরিবারকে এ ধরনের মর্মান্তিক পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে হয়—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।