
সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি হানিফ সংকেতের নামে একটি ভুয়া মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট নয়, শেখ হাসিনা হলো বাংলাদেশ গড়ার আর্টিস্ট।” তবে রিউমর স্ক্যানার নিশ্চিত করেছে, এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং হানিফ সংকেতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
এই ভুয়া মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে হানিফ নিজেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার নাম ব্যবহার করে ছড়ানো পোস্ট বা ফটোকার্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি লিখেছেন, “সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক মাধ্যমে কোনো কিছু পোস্ট বা শেয়ার করা শুধু অন্যায় নয়, অপরাধও। দুঃখজনক হলেও সত্য, সম্প্রতি আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ফটোকার্ড পাঠিয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।”
হানিফ আরও জানিয়েছেন, “উক্ত ফটোকার্ডের কথাগুলো আমার উপস্থাপনাশৈলীর অনুকরণে ছন্দবদ্ধভাবে লেখা হলেও, সেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। অথচ অনেকেই সত্যতা যাচাই না করেই এগুলো শেয়ার করছেন, কমেন্ট করছেন এবং লাইক দিচ্ছেন।”
তিনি সামাজিক দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ চার দশক ধরে আমি কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই নিরপেক্ষতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করছি। আমার প্রকৃত বক্তব্য, উক্তি বা ফটোকার্ড শুধুমাত্র আমার নিজস্ব ভেরিফায়েড প্ল্যাটফরম এবং স্বীকৃত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।”
হানিফ সংকেতের এই সতর্কবার্তা প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। তিনি অনুরোধ করেছেন, “এ ধরনের কোনো অজানা, অচেনা বা অখ্যাত উৎস থেকে আসা তথ্যে বিভ্রান্ত হবেন না এবং তা প্রচার করে অন্যকেও বিভ্রান্ত করবেন না।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সবার কাছে সত্যের মতো পৌঁছায়। এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা হিসেবে নেওয়া উচিত যে, কোনো তথ্য শেয়ার বা কমেন্ট করার আগে অবশ্যই উৎস যাচাই করা প্রয়োজন।
হানিফ সংকেতের সাবধানবার্তা দেশের ডিজিটাল জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা। তিনি নিজের নামের অপব্যবহার প্রতিরোধে সচেতন থাকার পাশাপাশি সমাজকেও একই দায়িত্বশীলতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এখন সময়ের জরুরি দাবি। ভুয়া তথ্য ছড়ানো শুধু বিভ্রান্তি নয়, বরং ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্বের লঙ্ঘন হিসাবেও গণ্য হতে পারে।