
পিরোজপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন মল্লিক নাসিরের ওপর হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার দাবিতে শুক্রবার সকালে পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যার উদ্দেশ্যে নাসির মল্লিকের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং শংকরপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা আকন, মতিঝিল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন গাজী, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিলন মল্লিক ও রবিউল মল্লিকসহ পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীরা। তারা জানান, হামলার পর চারজনকে আটক করা হলেও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার এখনও হয়নি।
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার মানববন্ধন সম্পর্কে জানান, ‘মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে।’ পুলিশের এই কার্যক্রম চলমান থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার সময় জিয়ানগরের পাড়েরহাট বাসস্ট্যান্ডের কাছে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতার ওপর হামলা চালায়। এ সময় নাসির মল্লিককে কুপিয়ে গুরুতরভাবে জখম করা হয়। এছাড়া, তার সঙ্গে থাকা তার ভাইয়ের ছেলে এবং শংকরপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক নিপুকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
এই ঘটনায় নাসির মল্লিকের মেয়ে শবনম নাফিসা বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় ১৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামিদের এখনও ধরতে পারেনি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে। তাই দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা উল্লেখ করেছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানাচ্ছেন এবং সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। তারা বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা যাতে আবার ঘটতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মানববন্ধনের মাধ্যমে মৎস্যজীবী ও স্থানীয়রা সরকারের প্রতি তাদের বার্তা দেন যে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন হবে।
এই ঘটনা পিরোজপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। হামলার দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা স্থানীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।