
দেশে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের রাজস্ব ঘাটতি এবং জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের কারণে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ধীরগতির নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনেও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ও জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় করা হয়েছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সংকট তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেলের সুপারিশ তৈরি করা। এ লক্ষ্যে একটি কমিশনও গঠন করা হয়। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
এদিকে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনা, জ্বালানি সংকট এবং মূল্যস্ফীতির চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টি এখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের দিকে।
জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে, যার আকার প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা হতে পারে। এই বাজেটে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় নতুন পে স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা কঠিন। বরং এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে এ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন বা প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ এই সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রধান ছিলেন জাকির আহমেদ খান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিলেও এখনো তা বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।