
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে ছাত্রদল ও স্থানীয়দের মধ্যে অবৈধ বালু ঘাট দখল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মুক্তার হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার অধীনস্থ গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মুক্তার হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার মুক্তার হোসেন তার দলবল নিয়ে সরকারি কলেজ এলাকায় বালু ঘাট দখল করার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা বাধা দেয়ায় তারা ফিরে যান। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে মুক্তার হোসেন মোটরসাইকেলের একটি বিশাল বহর নিয়ে পুনরায় বালু ঘাটে যান। এ সময় তারা এক নৌকার মাঝিকে পিটিয়ে আহত করে এবং নৌকাটি পুড়িয়ে দেয়।
স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। পালানোর সময় মুক্তার হোসেন ও তার লোকজনের অন্তত ১০–১২টি মোটরসাইকেলে আগুন লাগানো হয়। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকানপাটও ভাঙচুরের শিকার হয়। তবে, এই ঘটনায় মাঝি ছাড়া অন্য কেউ আহত হয়নি।
ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ বলেন, “বালু ঘাট দখল নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংঘর্ষের খবর আমরা শুনেছি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তারকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে, ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত করা হবে। প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পেছনে অবৈধ বালু ঘাট দখলের চেষ্টা এবং ছাত্রদলের নেতা-মতবাদীদের আংশিক সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা যাবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
ময়মনসিংহের এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এটি নির্দেশ করে যে, স্থানীয় নেতাদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সংঘর্ষ সৃষ্টি করা রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকারের পরিপন্থী।