
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গরু চোরের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা হলেন বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ মাসুদ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন।
ওসি জানান, এক স্টাফের বিরুদ্ধে চোরের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরবর্তীতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তির বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার একটি গরু চুরি হয়ে যায়। চুরির পর স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া দিলে সন্দেহভাজন চোর আলাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করেন। এলাকাবাসীর দাবি, আলাল মিয়া ওই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আলাল মিয়ার বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় হলেও তিনি পাশের ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামে বসবাস করেন বলে জানা গেছে। গরু উদ্ধারের সময় স্থানীয়রা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এরপর সেই ফোনে থাকা বিভিন্ন তথ্য ঘেঁটে তারা বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবাইল ফোনে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে ভয়েস মেসেজ, চ্যাট এবং ফোনালাপের নানা আলামত পাওয়া গেছে, যা ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে চোরের যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়। এসব তথ্য সামনে আসার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিষয়টি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।
এদিকে আলাল মিয়া স্থানীয়দের কাছে দাবি করেন, তিনি একসময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সময় এসআই মাসুদ তাকে ধরতে গিয়ে তার বাড়িতে আসেন এবং সেখান থেকেই তাদের মধ্যে যোগাযোগের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সময়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে টাকা দিতেন এবং বিনিময়ে সহযোগিতা পেতেন বলেও অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সর্বশেষ গরু চুরির সময়ও তিনি এসআই মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এমনকি চুরির আগে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান এবং কোনো সমস্যা হলে সহযোগিতার আশ্বাস পান বলেও তার অভিযোগ।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন এসআই মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। তিনি স্বীকার করেন যে ইমোতে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা হয়েছে, তবে তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না এবং তার কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে বরখাস্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
সবশেষে বলা যায়, গরু চুরির মতো একটি সাধারণ অপরাধের ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসা একটি গুরুতর বিষয়। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।