
চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানান এবং চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তার পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ফলে পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাত ইতোমধ্যেই বিপুল প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের এই ভয়াবহতা শুধু সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এর প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতোমধ্যেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আসন্ন পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ঈদ ও রোজা উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির পর আগামী ২৯ মার্চ থেকে অফিস-আদালত, কলকারখানাসহ সবকিছু পূর্ণমাত্রায় চালু হবে। ফলে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা এক ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই সংকট শুধু যানবাহন চলাচল বা বিদ্যুৎ সরবরাহেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি শিল্প, কৃষি ও উৎপাদনসহ সব খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমনকি বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে ইন্টারনেট সেবাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা উচিত। তার মতে, যুদ্ধ কখনোই কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না; বরং তা নতুন সংকট সৃষ্টি করে এবং মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়ে বলেন, এই যুদ্ধের আগুনে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। তাই মানবতার স্বার্থে যুদ্ধ বন্ধ করা জরুরি। তিনি অনুরোধ জানান, বিশ্ববাসীকে আর কষ্ট না দিয়ে শান্তির পথে ফিরে আসার জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এমন আহ্বান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ যুদ্ধের প্রভাব এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা অর্থনীতি, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
সবশেষে বলা যায়, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক মতামত নয়, বরং এটি একটি মানবিক আহ্বান। যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসরণ করাই বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি—এই বার্তাই তিনি তুলে ধরেছেন।