
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই—সবার রক্তের রং লাল। তিনি বলেন, মানুষ সনাতন, মুসলমান, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান—যে ধর্মেরই হোক না কেন, সবার পরিচয় একটাই—মানুষ। তাই কাউকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ৮টায় হাকিমপুর পৌরসভার চন্ডিপুর সার্বজনীন মন্দিরে আয়োজিত হরিবাসর (ধর্মসভা) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জন্ম যেমন একা, মৃত্যুও তেমনি একা—মানুষের মধ্যে পার্থক্য কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ, যেমন কবর দেওয়া বা দাহ করা।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, এই দেশ সবার—এখানে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। তিনি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সকল ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গঠনের কথা উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন এবং নির্বাচনের পরও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। ভবিষ্যতেও যে কোনো প্রয়োজনে জনগণের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এছাড়া তিনি জানান, তার নির্বাচনী এলাকার চারটি থানায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা, ঈদগাহ মাঠ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর আগমনে তাকে এবং তার সহধর্মিণীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষরা। এই আয়োজনটি ছিল সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মানের একটি প্রতীকী উদাহরণ। ধর্মীয় পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান চলাকালে মন্ত্রী কীর্তন শোনার পাশাপাশি উপস্থিত মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন। এতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সফরে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. শরিফা করিম স্বর্ণা এবং পার্সোনাল সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা রঞ্জু। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, যেমন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মন্দির কমিটির সদস্যরাও এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও অর্থবহ করে তোলে এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাকে শক্তিশালী করে।
সবশেষে বলা যায়, হাকিমপুরের এই ধর্মসভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রীর বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি ছিল একটি মানবিক ও সামাজিক বার্তা। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।