
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম এক অনন্য আবহের সৃষ্টি করেছিল, যেখানে সাবেক তারকা ফুটবলারদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। লাল ও সবুজ—এই দুই দলে বিভক্ত হয়ে খেলেন দেশের এক সময়ের জনপ্রিয় ফুটবলাররা। বয়সের ভার সত্ত্বেও মাঠে তাদের পারফরম্যান্স দর্শকদের ফিরিয়ে নেয় সোনালি অতীতে।
এই বিশেষ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারেক রহমান-এর উপস্থিতি। ক্রীড়াপ্রেমী এই প্রধানমন্ত্রী তার মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে মাঠের ডাগআউটে বসে পুরো ম্যাচ উপভোগ করেন। তার উপস্থিতি খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা যোগায় এবং মাঠের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ম্যাচে অংশ নেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি লাল দলের হয়ে খেললেও তার পরিচিত গোলরক্ষকের ভূমিকায় দেখা যায়নি। বরং তিনি মিডফিল্ডে দায়িত্ব পালন করে খেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন। তার এই অংশগ্রহণ মাঠে উপস্থিত দর্শক এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করে।
খেলায় সবুজ দল ৩-০ গোলে জয় লাভ করে। দলের হয়ে গোল করেন আজমল হোসেন বিদ্যুৎ, মো. শরিফ এবং টাইগার মিলন। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উপভোগ্য, যেখানে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দক্ষতা এবং সমন্বয় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। বয়স পঞ্চাশ বা ষাটের ঊর্ধ্বে হলেও তাদের খেলায় ছিল না কোনো ক্লান্তির ছাপ, বরং ছিল আবেগ, অভিজ্ঞতা এবং ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।
একসময় এই খেলোয়াড়দের খেলাই দর্শকদের ভিড় জমাত স্টেডিয়ামে। সেই স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত করে তোলে এই প্রীতি ম্যাচ। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরাও সেই পুরোনো দিনের আবহ অনুভব করেন এবং খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
ম্যাচ শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পদক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মিত সাধনার মাধ্যমে খেলাধুলায় সাফল্য অর্জন সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তার এই বক্তব্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধনে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাবেক খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ততা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাদের সংযোগ তৈরি হলে ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, এই প্রীতি ম্যাচ শুধু একটি খেলা ছিল না, বরং এটি ছিল স্মৃতির পুনর্জাগরণ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। সরকারের সহায়তা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াজগৎ আরও এগিয়ে যাবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।