
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর স্বাধীনতার ঘোষণা সারা জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি শুধু একটি বার্তা ছিল না, বরং এটি পুরো জাতির জন্য একটি শক্তিশালী প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাটি ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে পরবর্তী দিনগুলোতেও বারবার প্রচারিত হয়েছে। বিশেষ করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের সর্বত্র। সে সময় একটি ছোট ট্রানজিস্টরের মাধ্যমে মানুষ নিয়মিত এই ঘোষণা শুনতেন, যা তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সাহস জুগিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এই ঘোষণাটি দেশের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছিল। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের জন্য একটি নিয়ামক শক্তি, যা মানুষের মনোবল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আহমেদ আযম খান বলেন, তিনি তখন তরুণ ছিলেন এবং এসএসসি পরীক্ষা না দিয়েই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। সেই সময় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের বার্তাগুলো তাদের জন্য মানসিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা জাতির মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিল এবং যুদ্ধের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ মনোভাব গড়ে তুলেছিল। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম পর্যন্ত সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।
এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো দল স্বাধীনতা দিবস পালন করলে তা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা উচিত। তবে এসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন কেমন হয়, সেটি সময়ই বলে দেবে।
তিনি আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে গবেষণা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজ চলমান রয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হবে।