
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের ছুটিও শেষ হওয়ায় রাজধানী ঢাকা-মুখী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে বাস ও ট্রেনের টিকিট সংকট এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বাধ্য হয়ে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে ঢাকায় ফিরছেন।
দিনাজপুর রেলস্টেশন-এ সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকাগামী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের আসনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় অনেকেই কাঠফাটা রোদে উত্তপ্ত ছাদে বসে যাত্রা করছেন। আবার বগির ভেতরের তীব্র গরম ও অসহনীয় ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রী ছাদে উঠে যাচ্ছেন।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস প্রতিদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে দিনাজপুর স্টেশনে পৌঁছায় এবং স্বল্প বিরতির পর ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে যাত্রীরা জানিয়েছেন, দিনাজপুরে পৌঁছানোর আগেই ট্রেনটির ছাদ পূর্ণ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পৌঁছানোর আগেই ছাদে তিলধারণের জায়গাও থাকবে না।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছেন। আবার কেউ স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়েও বগির ভেতরের অতিরিক্ত ভিড় ও গরম সহ্য করতে না পেরে ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ ভিড়ের কারণে বগিতে উঠতেই পারেননি। সবার লক্ষ্য একটাই—যেকোনোভাবে রবিবারের আগেই কর্মস্থলে পৌঁছানো।
পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে ছাদে উঠে আসা যাত্রী মিলন রহমান ও সাজু জানান, প্রচণ্ড রোদে ট্রেনের ছাদ এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সেখানে রুটি ভাজা সম্ভব। তাদের ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা এই ছাদেই কাটাতে হচ্ছে। যদিও রাত হলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা করছেন তারা।
অন্যদিকে, দিনাজপুর স্টেশন থেকে ছাদে ওঠা যাত্রী আব্দুস সামাদ বলেন, টিকিট থাকা সত্ত্বেও ভেতরের অতিরিক্ত ভিড় ও গরমের কারণে ছাদে উঠতে বাধ্য হয়েছেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর স্টেশন সুপার এ বি এম জিয়াউর রহমান জানান, সরকার ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিল যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ছুটির শেষদিকে ফেরায় হঠাৎ করেই যাত্রীচাপ বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত বগি সংযোজন করেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ঈদের পর কয়েকদিন ট্রেন ফাঁকা থাকলেও এখন আসনের তুলনায় দ্বিগুণ যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। তীব্র গরমে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তা ঠেকানো যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুতায়িত লাইন, সেতু পারাপার কিংবা হঠাৎ ব্রেকের সময় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা, সঠিক পরিকল্পনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।
ঈদ-পরবর্তী এই দৃশ্য দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং পরিকল্পনার ঘাটতির বিষয়টিকেই আবারও সামনে এনে দিয়েছে।