
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগরী খুলনা-তে জ্বালানি তেলের সংকট ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। নগরীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দিন দিন বাড়ছে, অথচ চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও চালকরা।
শহরের পাওয়ার হাউজ মোড়, সোনাডাঙ্গা ও দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই ১ থেকে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
অনেক পাম্পে সীমিত পরিমাণে রেশনিংয়ের মাধ্যমে তেল দেওয়া হচ্ছে। একটি পাম্পের অপারেটর জানান, ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তেল দেওয়া হচ্ছে। প্রাইভেটকারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে অনেক সময় এমন পরিস্থিতিও দেখা যাচ্ছে, যেখানে পাম্পে কোনো তেলই নেই। ফলে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পাম্প বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, তেল আসার পর মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে চালকদের সঙ্গে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোথাও কোথাও পুলিশি প্রহরাও দেখা গেছে।
একই সঙ্গে নগরীর কিছু পাম্প নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যানবাহনের জন্য সীমিত সময় খোলা রাখা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য সেগুলো বন্ধ থাকছে।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে দৈনন্দিন জীবনেও। একজন চিকিৎসক জানান, নিয়মিত তেল না পাওয়ায় তাকে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না এবং রোগীদের সেবা দিতেও সমস্যা হচ্ছে।
চালকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, প্রতিদিন অফিসে যেতে তেল প্রয়োজন হলেও তা না পাওয়ায় বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আরেকজন প্রাইভেটকার চালকের ভাষায়, “এক হাজার টাকার তেলে কতক্ষণ চলবে? ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”
ক্রমবর্ধমান এই সংকটে নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।