
ইসরায়েলের তেল আবিব শহরের আকাশে হাজার হাজার কাকের বিশাল ঝাঁকের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) শহরের আকাশ প্রায় কালো মেঘের মতো কাকের ঝাঁকে ঢেকে যেতে দেখা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের ব্যাখ্যা সামনে আসে। অনেকেই এটিকে ‘সর্বনাশের পূর্বাভাস’ হিসেবে দেখছেন এবং ইসরায়েল ও ইরান-এর চলমান উত্তেজনার সঙ্গে এর সম্পর্ক টানছেন।
কিছু ব্যবহারকারী এটিকে ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। বাইবেলের ‘রিভেলেশন’ অধ্যায়ের উদ্ধৃতি টেনে অনেকে এই ঘটনাকে অশুভ সংকেত হিসেবে তুলে ধরছেন।
তবে পাখিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের মতে, এটি একটি স্বাভাবিক ঋতুভিত্তিক পরিযান। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পাখি চলাচলের রুটের মধ্যে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বসন্ত মৌসুমে প্রায় ৫০ কোটি পাখি এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। এই সময় হুডেড কাকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শহরাঞ্চলে অস্থায়ীভাবে জড়ো হয়, যা স্বাভাবিক আচরণ।
মার্চ মাসে তেল আবিবের মতো শহরে বড় আকারে কাকের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। আবহাওয়া, খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং পরিযানকালীন বিশ্রামের জন্য এমন সমাবেশ ঘটে থাকে।
তবুও সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই এটিকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। ইতিহাসে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে পাখির আচরণকে ভবিষ্যতের সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে টাওয়ার অফ লন্ডন-এর দাঁড়কাকদের কথা উল্লেখ করা হয়, যাদের নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাস রয়েছে—যদি তারা দুর্গ ছেড়ে যায়, তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন দৃশ্য আকর্ষণীয় হলেও এটিকে রহস্যময় বা অশুভ হিসেবে দেখার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক একটি চক্রের অংশ।