
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতিতেও। অস্ট্রেলিয়া সাময়িকভাবে ইরান থেকে আসা দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা আগামী ছয় মাস কার্যকর থাকবে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেক স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারী ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে ফিরতে না-ও পারেন বা ফিরতে অনিচ্ছুক হতে পারেন।
এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, “ইরানের সংঘাতের কারণে ঝুঁকি বেড়েছে। কিছু অস্থায়ী ভিসাধারী হয়তো নির্ধারিত সময় শেষে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করতে পারবে না।” এই পদক্ষেপ সরকারকে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সময় দেবে বলেও জানানো হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাটি মূলত সেইসব ইরানি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করছেন। পর্যটন বা কাজের উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসা থাকলেও তাদের এই নিয়মের আওতায় পড়তে হবে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানি নাগরিক, ট্রানজিটে থাকা যাত্রী, অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রী, নির্ভরশীল সন্তান এবং স্থায়ী ভিসাধারীরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে—যেমন অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের পিতামাতার ক্ষেত্রে—ছাড় বিবেচনা করা হতে পারে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় কে স্থায়ীভাবে থাকতে পারবেন, সে সিদ্ধান্ত সরকারের হওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান, সংঘাত শুরুর আগে ইস্যু করা অনেক ভিসা বর্তমান পরিস্থিতিতে হয়তো দেওয়া হতো না।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনবে।
এদিকে, সিডনি-ভিত্তিক ‘অ্যাসাইলাম সিকার্স সেন্টার’ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, এটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক এবং নিরাপত্তা প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়াকে ইরানের নারী ফুটবল দলকে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি কঠোর নীতিগত অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশ তাদের অভিবাসন ও ভ্রমণ নীতিতে পরিবর্তন আনছে, যা আন্তর্জাতিক চলাচলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।