
পেট্রল সংকট মোকাবিলায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা-এ নতুন নিয়মে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন থেকে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেই কেবল তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করা হলেও অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ ভোগান্তি।
বুধবার বিকেল থেকে উপজেলার মেসার্স রামনাবাদ এন্টারপ্রাইজে এই নিয়মে তেল সরবরাহ শুরু হয়। ফলে তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক আলামিন জানান, তার গাড়ির কাগজপত্র থাকলেও হেলমেট না থাকায় তাকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এতে সাধারণ চালকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষও দেখা গেছে।
রামনাবাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাওসার নাঈম বলেন, “আজ তেলের সরবরাহ কম পেয়েছি, মাত্র ১৬০০ লিটার। চাহিদা অনেক বেশি, কারণ অন্য ডিলারদের কাছে তেল না থাকায় চাপ এখানে বেড়েছে।” তিনি আরও জানান, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড থেকে সরবরাহ আসলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এদিকে গলাচিপায় নিজস্ব পেট্রল পাম্প না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে সন্ধ্যার দিকে কিছু মোটরসাইকেল চালক রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা কাজ করছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ভোগান্তি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির আশা করা হচ্ছে।